১৯৫২ সালে ভাষার জন্য রক্ত ঝরেছিল, বাংলার মাটিতে শহীদদের আত্মত্যাগ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার সাত দশক পরও এই রাষ্ট্র তার শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার দিতে ব্যর্থ! এবার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেমেছে।
শিক্ষকদের প্রতি এই অবিচার আর কতদিন?
বছরের পর বছর ধরে বেসরকারি শিক্ষকরা বঞ্চিত, অবহেলিত। শিক্ষার অন্যতম মূল স্তম্ভ হয়েও তারা ন্যূনতম সুবিধা পান না। সরকারি শিক্ষকদের সমান সুযোগ সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। পেনশন নেই, চিকিৎসা সুবিধা নেই, বদলির অধিকার নেই, অথচ রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার বিশাল অংশ এদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এবার আর না ! শিক্ষকরা রাস্তায় নেমেছে, তাদের দাবি একটাই—জাতীয়করণ। ১৯৫২ সালে আমরা আমাদের ভাষার অধিকার ছিনিয়ে এনেছিলাম, ২০২৫ সালে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার ছিনিয়ে আনব।
এই আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না!
বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেসরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতির মোহে ভুলে থাকার সময় নেই। শিক্ষকরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—এই আন্দোলন শেষ হবে ন্যায্য অধিকার আদায়ের মাধ্যমে।
সরকার কি আমাদের কণ্ঠরোধ করতে পারবে? ১৯৫২ সালে পারেনি, ২০২৫ সালেও পারবে না! যদি আমাদের দাবি পূরণ না করা হয়, তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়বে, সারা দেশজুড়ে শিক্ষকরা রাজপথে নামবে। আমরা ঘরে বসে থাকব না, আমরা বুঝে নেব আমাদের প্রাপ্য!
রাষ্ট্রের জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
এই আন্দোলন কোনো স্বাভাবিক আন্দোলন নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। আমরা যারা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি, আজ আমাদেরই ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
সরকার যদি অবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেয়, তাহলে আগামী দিনে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হবে, দেশের মেধা নষ্ট হবে, আর শিক্ষকরা রাস্তায় রক্ত ঝরাতে বাধ্য হবে।
আমরা লড়াই করব, প্রয়োজনে রক্ত দেব! যেমন ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য, এবার ২০২৫ সালে শিক্ষকের মর্যাদার জন্য—আমাদের রক্তে যদি আরেকটি অধ্যায় লেখা লাগে, তবুও আমরা পিছপা হব না!
রাষ্ট্রের কর্ণধারদের প্রতি শেষবারের মতো আহ্বান—তথাকথিত আলোচনার নাটক বন্ধ করুন, শিক্ষকদের সঙ্গে আর প্রতারণা নয়! অবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের ঘোষণা দিন, নাহলে ইতিহাসের দায় আপনাদের নিতে হবে।
**সমাধানঃ প্রজ্ঞাপন জারী জরুরী, **
সরকারের টালবাহানা আর সময়ক্ষেপণের নীতি শিক্ষকদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের বিষয়টি আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
শিক্ষকরা আর আশ্বাসের ফাঁদে পা দেবে না। তারা চায় প্রজ্ঞাপন, চায় নির্দিষ্ট তারিখ! যদি প্রজ্ঞাপন জারি না করা হয়, তাহলে সারা দেশব্যাপী আন্দোলনের বিস্ফোরণ ঘটবে। শিক্ষা ব্যবস্থার এই সংকট নিরসনে একমাত্র উপায় হলো দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সরকার কি আবারও কালক্ষেপণ করবে, নাকি শিক্ষকদের দাবির প্রতি সুবিচার করবে?—এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে এখনই!


Post a Comment