![]() |
| বয়সের ভার নয়, অভাবের চাপেই নুইয়ে পড়ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীগ্ণ |
অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্বিষহ জীবন: দেখার কেউ নেই!
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পর অবসরে গেলে তাঁদের জীবন যেন নরকযন্ত্রণা হয়ে ওঠে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যখনই অর্থসংকটে পড়েন, তখন অবসরপ্রাপ্তদের অবস্থার কথা সহজেই অনুমেয়। এক মাসের বেতন না পাওয়ায় কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে যেমন হাহাকার চলছে, অবসরপ্রাপ্তদের তো মাসের পর মাস কোনো ভরসা থাকে না।
অবসরকালীন সুবিধার অভাবে দুর্বিষহ জীবন
সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন সুবিধা থাকলেও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা তা থেকে বঞ্চিত। অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের নামে সামান্য অনুদান দেওয়া হলেও, তা নিয়মিত না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অথচ সারাজীবন শিক্ষকতা করেও তাঁরা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা
বয়স বৃদ্ধির সাথে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। অথচ চিকিৎসার জন্য তাঁদের কোনো স্বাস্থ্য বীমা বা সরকারি সহায়তা নেই। ফলে অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যান, কেউবা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েন।
পরিবার ও সমাজের অবহেলা
অবসরপ্রাপ্তদের অনেকেই পরিবার ও সমাজ থেকে অবহেলিত হন। কর্মক্ষমতা হারানোর পর তাঁদের গুরুত্ব কমে যায়। মাসের পর মাস টাকা না পাওয়ায় সন্তানদের উপর নির্ভর করতে হয়, যা অনেক সময় পারিবারিক কলহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
![]() |
| বয়সের ভার নয়, অভাবের চাপেই নুইয়ে পড়ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীগ্ণ |
রাষ্ট্রের নীরবতা কতদিন?
সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরের পরও নিশ্চিন্ত জীবনযাপন করেন। তাহলে বেসরকারি শিক্ষকরা কেন এই বৈষম্যের শিকার? শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা কেন অবহেলিত?
রাষ্ট্র বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। কবে হবে তাঁদের অবসর ভাতা নিয়মিত? কবে মিলবে চিকিৎসা ও পেনশন সুবিধা? সরকার কি তাঁদের শেষ বয়সের কষ্ট দেখেও চুপ থাকবে?
এই নীরবতা আর কতদিন চলবে? রাষ্ট্রের উচিত অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা—এখনই!
সরকার ও নীতিনির্ধারকদের করণীয়
👉 অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা উচিত।
👉 অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম দ্রুততর করা প্রয়োজন।
👉 চিকিৎসা সহায়তার জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করা আবশ্যক।
👉 অবসরকালীন সময়ের জন্য সরকারি অনুদান বা ভাতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন কষ্ট লাঘব করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাঁদের এই অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের সুদৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন।


Post a Comment