রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এমন এক লোভনীয় বিষয় যা মানুষকে পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। এটি কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায় এবং কখনো নিলজ্জ করে তোলে। ইতিহাসে বারবার প্রমাণ হয়েছে যে, ক্ষমতার মোহ মানুষকে সঠিক এবং ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বাংলাদেশে এর এক উজ্জ্বল উদাহরণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে রাজনীতির বিভিন্ন রঙ দেখিয়েছেন।
ক্ষমতার মোহ: হাসায়, কাঁদায়, নিলজ্জ করে
রাজনীতির মঞ্চে ক্ষমতার লড়াই চিরন্তন। একবার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ সেটি ছাড়তে চায় না। ফলে, ক্ষমতার রঙ বদলায়, নীতি বদলায়, এবং নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
১। ক্ষমতা হাসায়: রাষ্ট্রনায়কদের অনেকেই ক্ষমতা পেয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন যে, তারা নিজেদের অপরাজেয় ভাবতে শুরু করেন। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও এই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে তিনি বারবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যঙ্গ করেছেন এবং নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছেন।
বিরোধী দলের নেতাদের প্রতি যে নির্যাতন করা হয়, তা এক ধরনের ক্ষমতার নিষ্ঠুর রূপ। যারা অন্যায়ভাবে বন্দী হন বা স্বজন হারান, তারা কাঁদেন।
৩। ক্ষমতা নিলজ্জ করে:
- রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকাকালীন অনেক নেতা এমন কাজ করেন যা সাধারণ জনগণের কাছে নিন্দনীয় হয়ে ওঠে। অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি—এসবই ক্ষমতার নিলজ্জ দিককে তুলে ধরে।
- শেখ হাসিনার আমলে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করা হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার: শেখ হাসিনার আমল
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে অনেক এগিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং একদলীয় শাসনের অভিযোগও উঠে এসেছে।
- বিচার বিভাগ ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
- নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দমননীতি
উপসংহার
ক্ষমতার মোহ মানুষকে পরিবর্তন করে। এটি হাসায়, কাঁদায় এবং নিলজ্জ বানায়। শেখ হাসিনার শাসনামল এ বাস্তবতার একটি উদাহরণ। ক্ষমতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে তা জনগণের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতার অপব্যবহার বেশি দিন টেকে না। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, তাই জনগণের কল্যাণেই রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত।

Post a Comment