বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সর্বজনীন বদলি, শতভাগ উৎসব ভাতা, এবং সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া ও মেডিক্যাল ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বা হবে। নিচের পরিচয় ও গুনাবলীর আলোকে আপনি কোন উপদেষ্টার মাধ্যমে আপনার ভাগ্যের দুয়ার খুলবে বলে মনে করেন? তা কমেন্টে লিখে জানাবেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্ট, পরিচয় ও গুনাবলীঃ
ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ, সামাজিক উদ্যোক্তা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। তিনি ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
১৯৭৬ সালে, ড. ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক থাকাকালীন সময়ে, জোবরা গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে ক্ষুদ্রঋণের ধারণা প্রবর্তন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে তাদের স্বনির্ভর হতে সহায়তা করে। এই উদ্যোগের জন্য তিনি ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
ড. ইউনূসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে:
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম।
২০১০ সালে কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল।
তিনি বিশ্বের সাতজন ব্যক্তির মধ্যে একজন, যারা নোবেল শান্তি পুরস্কার, প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল—এই তিনটি সম্মাননা অর্জন করেছেন।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, দেশের রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষিতে, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ড. ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর তিনি ১৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
ড. ইউনূসের গুণাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো তার উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে দক্ষতা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অবিচল প্রতিশ্রুতি। তার ক্ষুদ্রঋণ মডেল বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।
জনাব সালেহ উদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, পরিচয় ও গুনাবলীঃ
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবিদ। তিনি পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তার পৈতৃক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ১৯৬৮ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
তার কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে। পরে তিনি পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি) যোগ দেন এবং ঢাকা জেলার সহকারী কমিশনার ও পিরোজপুর মহকুমার প্রশাসকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড)-এর মহাপরিচালক, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নবম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি নিয়োগ পান এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ড. আহমেদের গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে তার গভীর অর্থনৈতিক জ্ঞান, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান। তিনি অর্থনীতি, উন্নয়ন এবং তার কর্মজীবন সম্পর্কিত ৮০টিরও বেশি নিবন্ধ ও বই প্রকাশ করেছেন, যা দেশ-বিদেশে সমাদৃত।
জনাব ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, শিক্ষা উপদেষ্টা, পরিচয় ও গুনাবলীঃ
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারক। তিনি ১৯৪৮ সালের ১ জুলাই নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ইসলামাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর, তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ড. মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন এবং ২০১১ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, তিনি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, ড. মাহমুদ জাতিসংঘের 'কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি'র সদস্য ছিলেন এবং সেখানে শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির নেতৃত্ব দেন। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স-এর ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক, এবং ইউরোপীয় গবেষণা নেটওয়ার্ক সিইআরপি-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে, ড. মাহমুদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।
তার রচিত সাম্প্রতিক বইগুলোর মধ্যে রয়েছে "মার্কেটস, মরালস এন্ড ডেভেলপমেন্ট" (২০১৭) এবং "থিওরি এন্ড প্র্যাকটিস অব মাইক্রোক্রেডিট" (২০২১)।
ড. মাহমুদের গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে তার গভীর অর্থনৈতিক জ্ঞান, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, এবং নীতিনির্ধারণে দক্ষতা। তার গবেষণা ও প্রকাশনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত এবং প্রশংসিত।
জনাব মোঃ নাহিদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, পরিচয় ও গুনাবলীঃ
মোঃ নাহিদ ইসলাম একজন বাংলাদেশি ছাত্রনেতা, আন্দোলনকর্মী এবং বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। তিনি ২০১৪ সালে দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২২ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত।
নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়, যা পরবর্তীতে সফল হয়। তার এই অবদানের জন্য তিনি ২০২৪ সালে টাইম ম্যাগাজিনের 'টাইম ১০০ নেক্সট' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে তিনি অন্তর্ভুক্ত হন। প্রাথমিকভাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও গ্রহণ করেন।
নাহিদ ইসলামের গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে তার নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবিচল প্রতিশ্রুতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উজ্জ্বল ফলাফল। তার নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা, পরিচয় ও গুনাবলীঃ
জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একজন বাংলাদেশি ছাত্রনেতা, আন্দোলনকর্মী এবং বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। তিনি ১৪ জুলাই ১৯৯৯ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. বিল্লাল হোসেন এবং মাতার নাম রোকসানা বেগম। আসিফ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী এবং কলেজটির বিএনসিসি ক্লাবের প্লাটুন সার্জেন্ট ছিলেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।
আসিফ মাহমুদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে তার নেতৃত্ব উল্লেখযোগ্য। তার এই অবদানের জন্য তিনি ২০২৪ সালে টাইম ম্যাগাজিনের 'টাইম ১০০ নেক্সট' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। পরে, ১৬ আগস্ট তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।
আসিফ মাহমুদের গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে তার নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবিচল প্রতিশ্রুতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উজ্জ্বল ফলাফল। তার নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।





Post a Comment