একজন ক্ষুদ্র লেখক/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীর বাস্তব কাহিনী, যিনি সংকটে পড়ে জীবন ও সংসার টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেতন না বাড়লে আত্মহত্যা বা স্ত্রী বিচ্ছেদ—জানুন এই হৃদয়বিদারক গল্প।
আমি একজন ক্ষুদ্র লেখক। পাশাপাশি একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কাজ করি। মাসিক বেতন ১৪,৮০০ টাকা। এই বেতনে চলা যায় না, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার স্ত্রী প্রায়ই বলেন, "তুমি শুধু কলম চালাও, কিন্তু পেট চালাবে কে?"
লেখকের বাস্তব কাহিনী বলতে গেলে শুধু কলমের আঘাতে নয়, বুকের রক্ত ঝরিয়ে লিখতে হয়।
🏚️ সংসার চালানো আজ অভিশাপ
- ৭,০০০ টাকা ভাড়া
- ২,৫০০ টাকা সন্তানদের স্কুল ব্যয়
- ২,০০০ টাকা খাবার
- বিদ্যুৎ, পানির বিল, ওষুধ, যাতায়াত—সব মিলিয়ে প্রতি মাসে ২০/২৫ হাজার টাকার প্রয়োজন
আমি প্রতিমাসে ৮/১০ হাজার টাকা ধার করি। বাজারে বাকি রাখা এখন অপমানের শামিল। দোকানদার মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
💔 স্ত্রীর হুমকি: "আমাকে আমার বাবার বাড়ি দিয়ে আসো"
সম্প্রতি এক রাতে স্ত্রী বললেন,
"তোমার এই লেখালেখির কিছুই হলো না। সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমাকে যদি ভালোভাবে রাখতে না পারো, আমার বাবার বাড়িতে দিয়ে আসো।"
আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। চোখে পানি এসে গেল। কী বলবো তাকে? সত্যিই তো, একটা সংসার কি শুধু কলমের ওপর টিকে থাকতে পারে?
📉 লেখালেখি আজ কেবল ভালোবাসা, নয় উপার্জনের পথ
পত্রিকায়, ওয়েবসাইটে লেখি। SEO আর ব্লগ কনটেন্ট লেখালেখির কাজও করি। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টাকা মেলে না, বা সময়মতো মেলে না। অনেকেই বলে,
"আপনার লেখা খুব ভালো লাগে, কিন্তু এই মুহূর্তে বাজেট নেই।"
সেই "বাজেট নেই" কথাটাই যেন গলায় ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🧠 মানসিক চাপ, ঘুমহীন রাত
⏳ জুলাই ২০২৫—আমার জীবনবৃত্তের শেষ তারিখ?
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে যদি বেতন না বাড়ে, কোনো আশার আলো না দেখি, তাহলে হয় নিজেকে শেষ করে দিব, নয়তো জীবন থেকে পালিয়ে যাব।
হয়তো বেছে নিতে হবে ভিন্ন পেশা, যা সম্মানের নয়, টিকে থাকার। অথবা স্ত্রী সত্যিই ছেড়ে যাবে আমাকে। কিংবা আমি হারিয়ে যাব কারো অজানা কাহিনির পাতায়।
🔎 রাষ্ট্র ও সমাজ কি একটুও সহানুভূতিশীল নয়?
সরকার বলে ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্মার্ট শিক্ষা, উন্নত রাষ্ট্র। কিন্তু একজন লেখকের বাস্তব কাহিনী যদি রাষ্ট্র না শোনে, তাহলে সেই উন্নয়ন কার?
আমার মতো অনেক শিক্ষক, লেখক, ক্ষুদ্র কর্মচারী আজ দুবেলা ভাত জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। সমাজ চোখ ফিরিয়ে নেয়। রাষ্ট্র কানে আঙুল দেয়।
📢 আমার শেষ আকুতি
আমি আত্মহত্যা করতে চাই না। স্ত্রী-সন্তান হারাতে চাই না। শুধু চাই একজন মানুষ হিসেবে বাঁচার মতো উপার্জন। লেখক হিসেবে কলম ধরার স্বাধীনতা। একজন বাবা হিসেবে সন্তানের মুখে হাসি দেখতে চাই।
এই গল্প শুধু আমার একার নয়, এটা হাজারো মানুষের মনের কান্না। যদি আপনি এ লেখাটি পড়ে সহানুভূতিশীল হন, তাহলে দয়া করে শেয়ার করুন। হয়তো কোথাও কেউ এই কান্না শুনতে পাবে।
📌 উপসংহার
লেখকের বাস্তব কাহিনী শুধু চোখের জল নয়, এটি এক সমাজের দায়মুক্তির ফলাফল। সময় এসেছে—অর্থনৈতিক ন্যায্যতা, মানবিক বিবেচনা ও সম্মানজনক জীবনের দাবি তোলার। নয়তো এই সমাজ একে একে হারাবে তার সৃষ্টিশীল প্রাণগুলো।


Post a Comment